কি ঘটছে শিক্ষা অধিদপ্তরে

 কি ঘটছে শিক্ষা অধিদপ্তরে

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিহীন বিধি বহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, অবৈধ পন্থায় টাকার বিনিময়ে মিলছে এমপিও ভুক্তি, বিধি-বিধান. আইন কানুনকে পাশ কাটিয়ে টাকার বিনিময়ে দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চিঠি । আইন শাখা বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে  তৈরি করছেন নতুন নতুন আইন । এমনই নানা অভিযোগ উঠে এসেছে শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিরুদ্ধে ।

অনুসন্ধানে উঠে আসে,গত ২০০৪ সালে রাবেয়া খাতুনকে কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ফুলবাড়িয়া,ময়মনসিংহ এর প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবৈধ পন্থায় নিয়োগ প্রদান করে।উক্ত বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি এবং স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ বিষয়টি প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিধি মোতাবেক যোগ্যতা অভিজ্ঞতা না থাকায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে একাধিক  অভিযোগ পত্র জমা দিলেও তা কর্ণপাত করেননি অধিদপ্তরের কর্তা ব্যক্তিগণ।যোগ্যতা না থাকার সত্ত্বেও কাগজপত্র বিহীন নানা কায়দা কানুন করে অবৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে দিয়েছেন এমপিও ভুক্তি । অবৈধ পন্থায় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিহীন প্রধান শিক্ষকের পদ পাওয়া রাবেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে  একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকার পরেও শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)উক্ত শিক্ষকের বকেয়া বেতন-ভাতা সহ নিয়োগ প্রদানে দিয়েছেন অবৈধ চিঠি। যা সম্পূর্ণ বিধি-বিধান ও আইনের প্রতি অবজ্ঞা দেখানোর শামিল। জানা যায় ২০০৪ থেকে অদ্যবধি তিনি স্কুলে আসেননি,কোন কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন না। কেন কি কারনে কিসের বিনিময়ে এসব হচ্ছে তা বোধগম্য নয় ! শিক্ষা অধিদপ্তরের এ ধরনের কান্ডজ্ঞানহীন কাজকর্মে কলুষিত হচ্ছে শিক্ষা বিভাগ, সুবিধা পাচ্ছে অবৈধভাবে  ঘুষ গ্রহণের সাথে জড়িত কর্তা ব্যক্তিগণ।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও কাগজপত্র পর্যালোচনায়  উঠে আসে, রাবেয়া খাতুন কয়েকবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে এমপিওভুক্তির আবেদন করলে অধিদপ্তর তা প্রত্যাখ্যান করে।উল্লেখ্য যে  মোঃ আনোয়ার হোসেন সহকারী পরিচালক(মা-২ ) স্বাক্ষরিত  এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ,প্রস্তাবিত প্রধান শিক্ষক জনাব রাবেয়া খাতুন এর প্রয়োজনীয় কাম্য অভিজ্ঞতা না থাকায় তার এমপিও ভুক্তির সুযোগ নাই। যার স্মারক নম্বর  ৪জি /৩৫৬৯-ম/০৭/১০৯৯১/৩ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০০৭ ইং। অন্য আরেক চিঠিতে মোঃ আনোয়ার হোসেন সহকারি পরিচালক (মা-২) বাবেয়া খাতুনের প্রধান শিক্ষক ও এমপিও ভুক্তি বাতিলের বিষয়ে বলেন ,তার তিন বছরের সহকারি প্রধান শিক্ষকের অভিজ্ঞতাসহ নিরবিচ্ছিন্নভাবে সহকারি শিক্ষক হিসেবে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকায়, তাকে এমপিও ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়নি। যার স্বারক নম্বর ২১২/৪জি/৩৫৬৯-ম/০৭-ম তারিখ  ৫ জুন ২০০৮ ইং। সুস্পষ্ট দুইটি চিঠি থাকা সত্তেও ২০০৯ সালে অলৌকিক ভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের দপ্তর রাবেয়া খাতুনকে এমপিও প্রদান করেছে। রাবেয়া খাতুন এর সার্ভিস ফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান সংক্রান্ত কোন কাগজ পত্র জমা দেন নাই। রাবেয়া খাতুন কে কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ফুলবাড়িয়া,ময়মনসিংহের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ আদালতে একটি মামলা হয় । আদালত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ও শর্তাবলী পূরণ ছাড়া কীভাবে তাকে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করা হলো, জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে এর জবাব চাইলে শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম  আদালতকে লিখিত জবাব দেন। মোঃ রফিকুল ইসলাম জেলা শিক্ষা অফিসার ময়মনসিংহ কর্তৃক ২০২২/১৫২৩ স্মারকে ৯/১১/২০০২২ খ্রিস্টাব্দে(সুত্র৩১১/২এস, তারিখ-১৬/১০/২০২২ইং) আদালতকে দেওয়া এক জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, রাবেয়া খাতুনের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগকালীন সময়ে রাবেয়া খাতুনের  কাম্য অভিজ্ঞতা  ছিলনা।

এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোসলেম উদ্দিন স্বীকার করে বলেন, ২০০৪ সালে রাবেয়া খাতুনকে সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় অভিজ্ঞতা ছাড়াই। তার যখন এমপিও হয়েছিল তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি আরো বলেন  অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিধান নেই। রাবেয়া খাতুন অবৈধ পন্থায় প্রধান শিক্ষক ও এমপিও ভুক্ত হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে মাউশি ডিজি বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল হয়, যার তদন্ত এখনো চলমান ।

কুশমাইল টেকিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়  ফুলবাড়ীয়া ময়মনসিং এর বহিষ্কৃত  প্রধান শিক্ষক  রাবেয়া খাতুন ও তার নিয়োগ পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ ইউনুছ ফারুকী, উপ-পরিচালক মাধ্যমিক শাখা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন এবং এটি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা  হবে।

এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তিনজন প্রধান শিক্ষক এবং স্তর পরিবর্তনের পর মাধ্যমিক স্তরে ছিলেন দুইজন প্রধান শিক্ষক, এরপর অবৈধ পন্থায় রাবেয়া খাতুনের নিয়োগ হয় । এ বিষয়ে রাবেয়া খাতুনের নিকট প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদপত্র চেয়ে একাধিকবার চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি কোন কাগজ পত্র জমা দিতে পারেন নাই। উক্ত চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক, ময়মনসিংহ শিক্ষা বিভাগ, জেলা শিক্ষা অফিসার ময়মনসিংহ , উপজেলা নির্বাহি অফিসার, ফুলবাড়ীয়া, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফুলবাড়ীয়া থানা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফুলবাড়ীয়া এবং রাবেয়া খাতুনের কাছে প্রেরণ করা হয়। যার স্মারক নম্বর  ফু/টে/উ/বি১১১৪১৩/২০/২০২৫ তারিখ ২২/০৬/২০২৫ ইং। ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন স্কুলের কোন কাজকর্মের সাথে জড়িত নয় এবং স্কুলে যোগদানও করেন নাই । তাই চূড়ান্তভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান  মহোদয়ের কাছে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয় যা এখনো তদন্তাধীন । যার স্মারক নম্বর ৪জি-৫৮৭-ম/১১.১০১৩(ক) তারিখ ১৯ জুন ২০২৫ ইং।

উক্ত বিষয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন মল্লিক আজকের সংবাদ কে বলেন,রাবেয়া খাতুন যে সময় প্রধান শিক্ষকের চাকরি নিয়েছেন তখন বিধি মোতাবেক  উনার অভিজ্ঞতা ছিলনা। ম্যানেজিং কমিটি কিভাবে দিলেন তা আমার বোধগম্য নয় ।এ প্রসঙ্গে জানতে রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন দিলে তিনি রিসিভ করে কথা বলেননি ।